আমেরিকায় এসে সদা বাবু এখন যেন এক আদর্শ কৃষক!
দেশে তাকে একটা মরিচ গাছের চারা লাগাতে কেউ দেখেনি!
অথচ ওখান থেকে চাকরীতে পেনশন নিয়ে এসে এখানের অনন্ত অবসর তাকে এক চান্সে সফল কৃষক করে!
শীতে ঘরে বসে বসে থেকে বই পড়া – টিভি দেখা!
আর সামারের ৩/৪ মাস বাসার পিছনে বাগান করে প্রতিদিন ফ্রেশ শাকসব্জি আহার!!!
এ এক মহানন্দ!
সব্জি নিজেরা খেয়ে ও আত্মীয়দের বিতরণের মজা’ই আলাদা!
এর মধ্যে কেউ কেউ বলছে চাইলে এই সব্জি বিক্রি করেও ভালো আয় করা যাবে!
কিন্তু এবার আত্মীয়দের বিলানো, বিক্রি দুরে থাক নিজেদের খাওয়াও হচ্ছে না!
পাশের বাসার ষ্ট্রভেরী গাছ কাটায় ওখানে আশ্রয় নেয়া রাকুনের দল এ বাসার ক্ষেতে রোজ রোজ খাবার আহরনে আসে আর তাদের সব্জি বাগান তছনছ করে যায়!!!
‘রাকুন’ ইঁদুরের মত দেখতে এক ধরণের তৃণভোজি প্রাণী যারা আকারে বিড়াল বা তার চেয়েও বড় হয়ে থাকে!
এখন সদা বাবুর ক্ষেতের একমাত্র ভিলেন “রাকুন” কিভাবে তাড়ানো যায় তা নিয়ে দিন-রাত তার এক দুঃশ্চিন্তা!
এদিকে ফ্রী-তে উপদেশ দিতে ওস্তাদ তার এক বাঙ্গালী বন্ধু দেশ থেকে উপদেশ দেয়-
এসব উঠকো ঝামেলা তাড়ানোর জন্য এত টেনশন নিও না -সোজা ব্রেডের মাঝে ইঁদুরের বিষ মাখিয়ে রাখবে পরদিন দেখবে তোমাদের ওসব রাকুন না ফাকুন আর কটা যা হোক গুষ্টিশুদ্ধ মরে পড়ে থাকবে!
তারপর তিনি বিষ প্রয়োগের বিষয়টি নিয়ে আমেরিকান এক বাঙ্গালী বন্ধুর সাথে কথা বলেন!
এবার যখন তার জানা হয় এখানে কোন পশু-পাখি মারলে নিশ্চিত জেল জরিমানা;তখন তিনি ওই কু-পরামর্শদাতা বন্ধুকে মনে মনে গালি দিতে থাকেন!
পরদিন টিভি দেখতে বসে হঠাৎ তার মনে হয়-আরে ইউটিউবে তো দুনিয়ার সব কিছু পাওয়া যায়!!
এবার তিনি ইউটিউবে “সহজে ক্ষেতের ইঁদুর তাড়ানোর টোটকা” সার্চ দিতেই নিজের কাঙ্খিত বিষয়ের ভিডিও পেয়ে যান!
দেখলেন কামরূপ-কামাখ্যার নামকরা গুণীন ইম্বুচা’র ভিডিও যাতে দেখা যায় কোন শনি বা মঙ্গলবার গৃহকর্তা নিজের ভুরু চেছে (সেভ করে)ফেলে ওই কেশ খেতের চার ধারে মাটিতে মিশেয়ে ছিটালে সব ধরণের ইঁদুর -কাঠ বিড়ালীর উপদ্রুপ থেকে চিরতরে ক্ষেত রক্ষা পায়!
এই ভিডিওটি সদা বাবু’র খুব পছন্দ হয় এবং পরদিন সকালে’ই তিনি বাথরুমে ঢুকে প্রথমেই ভুরু চেছে ফেলেন!
স্ত্রী কাজ থেকে ফিরে স্বামীর রূপ দেখে বলেন-
তোমার এই নবঢঙ্গ রূপ কে করলো..!
