রস রচনা : দামে কুপোকাত চড়ের আঘাতে পড়ে দাঁত(!)✍️হারান কান্তি সেন

Spread the love

তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায়। বাজারে সব কিছুর দাম চড়া থাকলেও এখনকার মত কাচা মরিচের আগুন দাবানল হয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে!কিছু কিছু ব্যবসায়ী সমিতি তাদের মার্কেটে খোলা বাজারে একজনকে একবারে ২০০ গ্রামের উপর কাচামরিচ বিক্রির উপরও নিষেধাঞ্জা জারি করে !কাচা মরিচ এমন এক জিনিষ যা ছাড়া ঘরে ঘরেও শুরু হয়েছে রুচি’র হরতাল!পান্তা ভাত,আলু ভর্তা থেকে শুরু করে রান্নার হেন আইটেম নেই যা কাচা মরিচ ছাড়া মুখরোচক হয়!পাড়ার টং দোকান থেকে শুরু করে শহরের নামি-দামী অনেক রেস্তরায় পরোটা-ভাজি-পায়াসহ সকালের নাস্তা-দুপুরের খাবার-বিকেলে মোগলাই পরোটা-শাহী হালিম-কাবাব-টিক্কা সবকিছুতে কাচামরিচ ব্যবহার বন্ধ করা হয়েছে!কোন কোন হোটেলে কিচেনের বদলে কাচা মরিচ স্হান করে নিয়েছে ক্যাশ কাউন্টারের ড্রয়ারে!সেখানেও ভিআইপি কাষ্টমারের প্রয়োজনে বয়-বেয়ারা হাতে করে ১টি’র বেশী কাচা লংকা দেয় না!ভ্রাম্যমান কিংবা ব্র্যান্ড ফুচকা/চটপটি’র ব্যবসাও অচল প্রায়! কোন কাষ্টমার কাচামরিচ ছাড়া এগুলো মুখে তুলতে চায় না!দোকানদাররা শুকনো লংকা ব্যবহার করে ইনিয়ে-বিনিয়ে যত’ই কাষ্টমার টানতে চায় ক্রেতারা তত’ই অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে নেয়!শেয়ার বাজারে ফুচকা/চটপটি’র দরপতন এক ঝটকায় ৮৭৫ শতাংশ নিম্নগামী!!!শহরের বিখ্যাত ধুতরা রেষ্টুরেন্ট যার ১৪টি শাখা সিটি’র চার পাশে রয়েছে এবং যেখানে লাঞ্চ বা ডিনার করার জন্য কমপক্ষে এক ঘন্টা লাইন দিতে হতো সেখানেও বয় বেয়ারাররা ক্রেতার অভাবে তখন সারাদিন মাছি তাড়িয়ে দিন কাটাতে হতো!মাছিরা দল বেঁধে রেষ্টুরেন্টে আসলে তাতে হোটেল মালিকের কোন আয় হতো না আর টিপস্ না পাওয়া বয়/বেয়ারারদের মুখের দিকে চাওয়া যেত না!ধুতরা রেষ্টুরেন্টের সব শাখায় ১৫ থেকে ২০ পদের ভর্তা কাষ্টমার টেনে আনলেও মালিক পক্ষ কম দামে ভর্তা দিয়ে মাছ মাংসের আইটেমের দামে এক হাত নিত!শুধু বিয়ের পার্টিতে কাচামরিচ ১০০% ব্যবহার হতো এবং এখানেও বাবুর্চিরা মালিকের কাছ থেকে নিয়ম দর হতে এক বা দুশো টাকা বেশী হিশেবে পাঁচ কেজি কাচামরিচের দাম নিত এবং চার কেজি কিনে এনে এক কেজি’র টাকা নিজের পকেটে ঢুকিয়ে আনন্দে বগল বাজাতো!আমাদের পাশের বাসার স্বামী-স্ত্রীকে কেউ কোনদিন উচ্চবাচ্য করতে দেখেনি! স্বামী বেচারা প্রায় দিন কাজ থেকে ফিরে বৈকালিক আরাম নিদ্রারত স্ত্রীকে না জাগিয়ে রান্না ঘরের সিংক ভর্তি বাসনপত্র ধোয়ে বিকেলর চা- নাস্তা রেডি করে স্ত্রীকে ডাকতেন – ও সোনা এখন ওঠে এককাপ চা আর আব্রা কেন্টিনের গরম গরম সিঙ্গারা খাও!!!আজকাল কাচা মরিচে আগুনের পর থেকে ও বাড়ির দম্পতির মাঝে দিন-রাত যেন খটা-খটি লেগে’ই আছে!!!স্ত্রী’র রোজ এক কথা – কাচামরিচ ছাড়া কোন রান্না অসম্ভব! কিন্তু স্বামী অফিস থেকে ফিরে নানান অজুহাত প্রস্তুত করে বলে আজ বাজারে কোন কাচামরিচ ছিল না-কাল নিশ্চয়ই মালের এরচেয়ে ভালো চালান আসবে!!!আমাদের বাড়িতে রোজ দুপুরে সব্জি আইটেম রান্না হতো এবং সে কারণে আমি প্রতিদিন যেমন কয়েক পদের সব্জি কিনতাম তেমনি কাচামরিচ কেনা তো ছিল অপরিহার্য!তো একদিন বিকেল বেলা সব্জি কেনার পর আমি যখন কাচামরিচ কিনতে গেলাম তখন দোকানি বললো পাঁচশো টাকা কেজি! আমি তখনই ওখান থেকে সরে উল্টো হাঁটা দিয়ে কিছুদূর যাবার পর দেখি এক সেনা জোয়ান এদিকে আসছেন।কি ভেবে আমিও তার পিছু পিছু হাঁটতে থাকলাম এবং তিনি ওই দোকানের সামনে গিয়ে বললেন- মুরুব্বি কাচা ঝাল কেজি কত?তখনই দোকানদার বেশী দাম বলতে ভয় পেল এবং আচমকা সে বলে বসে কাচা মরিচ একশো টাকা কেজি!!!সেনা জোয়ান বললেন-আমাকে হাফ কেজি দিন তো এবং আমি তখন বললাম আমার এক কেজি কাচা মরিচ লাগবে!!!দোকানী আমার চালাকীর কাছে পরজিত হয়ে অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে আমার উদ্দেশ্যে বলে-যাও রেবা চান্স’র টিকেট কাটলায়!!

বন্দর বাজার সোনা উল্ল্যাহ মার্কেটের সামনে দুইবন্ধু গদা আর সদা দাঁড়িয়ে আছে।
সদা খুব চালাক আর গদা অর্ধ বেয়াক্কেল!!!
এমনি সময় ওখানে এসে র‍্যাবের টহল ভ্যান থামে।
সদা তার বন্ধুকে বলে -দোস্ত তুই এই গাড়ির পিছনে কি লিখা পড়তে পারছিস?
গদা বলে আরে আমি কি তোর মত মূর্খ!
তোর বোধহয় জানা নেই আমি দু’বার এসএসসিতে অংশ নিয়ে শুধু অংকে ১ আর ২ কম পেয়ে আটকে যাই!
আমি ইংরেজীতে খুব ভালো!
তখনই সদা’র মাথায় দুষ্ট বুদ্ধি আসে!
সে বলে-বন্ধু এই গাড়ির পিছনে ইংরেজীতে কি যেন লিখা?
গদা কয়েকবার ওই লিখায় তাকিয়ে কিছু বুঝতে পারে না!
এদিকে বন্ধুর কাছে মান যাবে-কি করা কি করা?
অগত্যা গাড়ীর পাশে দাঁড়ানো এক র‍্যাব সদস্যের কাছে গিয়ে গদা জিঞ্জেস করে-
আচ্ছা স্যার, এই ইংরেজী লিখার অর্থ কি?
র‍্যাব সদস্যের পাল্টা প্রশ্ন-এটা জানা কি আপনার খুব দরকার???
গদা বেশ শক্ত হয়ে বলে-একজন জনগণ হিসেবে এটা জানা আমার অধিকার!!!
র‍্যাব সদস্য তখন হাত টান করে গদা’র কান বরাবর দেয় সজোরে এক চড়!!!!
চড়ের জেরে গদা ঘুরে ঘুরে প্রায় ৭ হাত দূরে গিয়ে পাকা ভুমিতে পতিত হয়!
অনুভব করে তার একটি দাঁত পড়ে গেছে!!!
এবার প্রথমে সে প্রিয় বন্ধু সদা’কে মনে মনে খোঁজে যাতে ও তাকে হাত ধরে ওঠায়!
কিন্তু যখন গদা’র গালে র‍্যাবের চড় পতিত হয় তখন সদা চাচা আপন বাঁচা বলে বলে জিন্দাবাজারের দিকে দে দৌড়…..!!!
৯ জুলাই’২৩
মিশিগান,USA