ফেসবুকের ঝলকে বদই’র বিয়ে পলকে(!)✍️হারান কান্তি সেন

Spread the love

সত্যি সত্যি আমাদের বদই এবার বিয়ে করবে।
কাতারে জীবনের অর্ধেক সময় কাটিয়ে অনেক টাকা কামিয়ে তার মনে হলো- এখন দেশে গিয়ে বিয়ে করে দেশে থিতু হওয়া প্রয়োজন।
ইতোমধ্যে সে দুই/তিন বছর পর পর দেশে ফিরে বিয়ের চেষ্ঠা করে এবং প্রত্যেকবার কনেও পছন্দ হয়।কিন্তু কনেরা পৃথক পৃথক বাড়ির হলেও সবার একমত বিয়ের পর বর প্রবাসী হতে পারবে না-স্বামীকে স্ত্রীর সাথে দেশে থাকতে হবে !
অতএব বদই প্রত্যেকবার দেশে গিয়ে বিয়ে বিফল হয়ে প্রবাসে কর্মস্হলে ফিরে যায়!
মাঝখান থেকে কনে বাড়ি যাওয়া- আসা গাড়ী ভাড়া, মিষ্টি কেনা আর ঘটকের ফি দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ হয় এমনি এমনি!
অবশ্য ফেরার পথে প্রত্যেকবার বদই মনে মনে পণ করে -আগামী বার দেশে আসলে একদম সব গুছিয়ে চলে আসবো!
আবার দেশে গেলে সে নিজের সাথে নিজের এই
কমিটমেন্ট ভুলে গিয়ে ভাবে এবার বিয়ে করে কাজে ফিরে একটা ক্ষ্যাপ মারবো এবং ফিরে গিয়ে পাকাপাকি দেশে আসন পাতবো!
এভাবে দিন-মাস-বছর যায়-বদই’র ভাগ্যে বিয়ের সানাই বাজে না!
অবশেষে নিজের বয়স যখন তিন কুড়ি পাঁচ পেরিয়ে গেল তখন বদই’র টনক নড়লো!
সে মনে মনে ভাবলো-
হায় হায় আমার তো অনেক টাকা হলো-দেশে সম্পত্তি যা করেছি তাতে নিজে খাব’ই যদি হয় তো পুত্র-কন্যারাও ঠাংগের উপর পা তুলে নিশ্চিন্তে খেয়ে যেতে পারবে!
এ কথা ভাবতে ভাবতে তার মনে হলো আর এক মাস পর কাজের মেয়াদ শেষ হবে!
তারপর দেশে গিয়ে এবার তাকে বিয়ের কাজ শেষ করতে হবে।
তার কথা হলো শরীরে বিদেশী ঘ্রাণ থাকতে থাকতে বিয়ে করলে ভালো কনে ও সমাজে ভালো ষ্ট্যাটাস পাওয়া যাবে!
যেমন ভাবনা তেমন কাজ! তখনই সে দেশে সালোয়ার ঘটকের কাছে কনের সন্ধান চেয়ে ফোন দেয়!
সালোয়ার ঘটক ছিল ঘটক পাখি ভাইয়ের সহকারী।
পরদিন সালোয়ার ঘটক এক এক করে দশজন কনের ছবি পাঠায় বদই’র ফোনে!
ছবি দেখে দেখে বদই’র মনে বাজতে থাকে-
“মালকা বানুর দেশেরে বিয়ার বাদ্য আল্লা বাজে রে
মালকার বিয়া হইব মনু মিয়ার সঙ্গে রে..”!
সবচেয়ে পছন্দের কনে যাকে বদই ১০০ তে ১১০ দেয় তার সাথে পরদিন সকাল বেলা বদইকে মোবাইলে কথা বলিয়ে দেয় সালোয়ার ঘটক!
এরপর বদই সালোয়ার ঘটককে অগ্রিম ২০ হাজার টাকা বিকাশ করে আরামে বসে লাচ্ছির বোতলে চুমুক দেয় আর ভাবে বিয়ে এবার করছি এবং করছি!
তার মনে অসীম আনন্দ!
বার বার বিয়ে ভাঙ্গায় অনেক বন্ধু তাকে ঠাট্টা করে বলেছিল-
আরে ব্যাটা বুড়ো হয়ে যাচ্ছিস আর বিয়ে করতে পারবি না!
আর পেলেও তোর কপালে ঝুটবে বুড়ি…!
কাউকে কিছু না জানিয়ে বদই দেশে ফিরে।
এই খবরটা আগে থেকে জানা ছিল শুধু বদই’র নিজের পরিবার, হবু শশুড়বাড়ি আর সালোয়ার ঘটকের !
এদিন সন্ধ্যার আগে বাড়ি-ঘর সাজিয়ে বদই’র গায়ে হলুদের আয়োজন হয়।
পরদিন বিয়ে হলে তো এমন হওয়াই স্বাভাবিক।
বদই’র ছোটভাই,বোন জামাইসহ নিকটাত্মীয় অনেকেই কনে দেখতে যাওয়ার ফর্মালিটি করতে আগ্রহী হলেও বদই’র এক কথা –
নিজের যখন কনে পছন্দ তখন এসব ফর্মালিটি করা তো-
হোয়াগো উঠিয়া কোলে ওঠার সামিল!
শেষে না কোন ঝামেলা লেগে বিয়ে ভেঙ্গে যায়!
এমনিতে বরগাইট লেগে তার বিয়ে চৌদ্দ বছর যাবত আটকে আছে!!!!
বদই এখন আর কোন রিক্স নিতে চায় না!
বদই’র বিয়ের খবর সন্ধ্যার আগেই দুলিয়ারবন্দে চাউর হয়ে যায়!
রাতে গায়ে হলুূদে দুই শতাধিক অতিথির সমাগম ঘটে এবং সবাইকে সিলেটের এক নামকরা রেষ্টুরেন্ট থেকে বিরিয়ানী আর বোরহানী দিয়ে আপ্যায়িত করা হয়!
রাত ১২ টার পর বদই তার ফেসবুকে দু’জনের ছবি দিয়ে ষ্ট্যাটাস দেয়
আজ আমি ও পরীচাঁন আমাদের চার হাত এক করা মহামিলন দিবসের দ্বার প্রান্হে!
অপরূপা কনের ছবি দেখে অনেকেই বলাবলি করতে থাকে-
দেখরায় নি বা আধা বুড়া বদই কী সুন্দর বউ পাইয়া তো গুট্টা মারি দিছে!
বদই’র নব বিবাহিতা স্ত্রী একদম নায়িকার মত!!

বিয়ের আসর কিংবা কাছে বসে গাড়িতে করে কনে নিয়ে আসার সময় বদই স্ত্রী’র দিকে তেমন খেয়াল করেনি!
আর নববধূকে দেখতেও সেরকম লাগছিল না লেগেও উপায় নেই কারণ সিলেটের সবচেয়ে নামকরা বিউটিশিয়ান দিয়ে কনে সাজালে তো কলা গাছকেও পরী মনে হবে!
রাতে বাসর ঘরে যখন তারা স্বামী-স্ত্রী একান্তে মুখোমুখি হয়ে বেচারা বদই’র একদম আক্কেল গুড়ুম!!!
তাই তো বধূবরনের পর তার মোটা ভাবি কাকে যেন বলতে শুনে-
ই কিতা বে বদইরে তো সোনা দেখাইয়া রাঙ দিলাইছে!!!
সে মনে মনে বলে হায় হায় দেখলাম নায়িকা আর পাইলাম কি!!!
পাঁচ কান হয়ে নববধূ চাঁনপরী’র কাছেও বিষয়টি পৌছে!
সে স্বামীর কামনাহীন একটু অন্য ধরণের দৃষ্টির উত্তর দিতে গিয়ে বলে-
তোমার মোবাইলটা একটু দাও।
বদই স্ত্রী’র কাছে মোবাইল দিতেই চাঁনপরী এক মিনিটের মাঝে স্বামীর একদম রাজ পুত্রের মত ছবি দেখায়!!!
নিজেকে এমন দেখে বদই কেমন ঘাবড়ে যায়!!!
এবার স্ত্রী চাঁনপরী তার নিজেরও পরীর মত একটা ছবি দেখায়!!!
এবার পেঁচার থাবা খেয়ে বসে থাকা বদই স্ত্রীকে বলে হায় হায় এটা কি করে সম্ভব!!!
তার স্ত্রী বলে এটা সম্ভব হয়েছে
ফেসবুকের My Avatar Puzzle-এর জন্য!!!
বদই বলে সালোয়ার ঘটক এই Avatar Puzzleএর চিপায় ফেলে আমার ছবি তোমাকে আর তোমার ছবি আমাকে দিয়ে বেশ ভালো’ই করেছে নইলে তোমার কি হতো জানি না তবে আমি গাছের ডালে দিন দিন আঙ্গুর পেকে কিশমিশ হতাম নিশ্চয়ই!!!
১২ এপ্রিল ২০২৪
মিশিগান ইউএসএ