বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহচর্য পাওয়া এমন কাউকে দেখলে যে কারো শিহরিত হওয়ার কথা-আমিও হয়েছি বটে!!! তিনি আমাদের সহকর্মী মোঃ সিরাজুল ইসলামের বয়স তখন ১৬ বা১৭ বছর হবে; ১৯৭৪ খ্রীষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাস-পবিত্র রমযান।
পুলিশ হাবিলদার তালতো ভাই মানিক মিয়া তখন জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের ধানমন্ডির সরকারী বাসায় নিরাপত্তায় দায়িত্বরত পুলিশ ফাঁড়ির প্রধান।
মোঃ সিরাজুল ইসলাম ঢাকা বেড়াতে গিয়ে তালতো ভাইয়ের ওই ঠিকানায় ওঠেন!
প্রথম দিন ভ্রমণ অবসাদে কাটলেও দ্বিতীয় দিন থেকে তিনি আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বৈঠক খানায় সারাদিন বসে থাকতেন!বড় আকারের বৈঠক খানাটিতে কয়েক সেট সোফা ছিল।সারা দিন ধরে দর্শনার্থীরা কবি’র সাথে দেখা করতে আসতেন।
কবি’র বেড রুম ছিল দু’তলায়,ওখান থেকে রোজ সকাল ৯টা-১০ টায় তাঁকে বৈঠক খানায় নামিয়ে আনা হতো এবং রাত ৯টা-১০ টায় উপরে যেতেন।
বৈঠক খানায় সোফার সাথে একটা সিঙ্গেল খাট ছিল যার উপর একটা ছোট্ট বালিশ।কবি শিশুর মত ওই বালিশ মাটিতে ফেলতেন আবার গুটি গুটি পায়ে এসে বিছানায় তুলে রাখতেন!
আবার ফেলতেন এবং তুলে রাখতেন!মাঝে মাঝে ওই ছোট্ট পালঙ্কে বসতেন!
কবি বেশ উচ্চ স্বরে অস্পষ্ট কথা বলতেন যা শোনে প্রথম প্রথম কিশোর সিরাজের ভয় লাগতো!কবি কখনো সোফায় বসতেন না-তিনি বসতেন ওই খাটে!
একদিন কিশোর সিরাজ কবি’র গালে হাত বুলাতে থাকলে তিনি মুষ্টিবদ্ধ করে তার হাত ধরেন!কবি’র সে’ই কোমল হাতের ছোঁয়া এখনো ভুলতে পারেন না সুনামগঞ্জ জেলার ছাতকের (নোয়ারাই,ইসলামপুর)সন্তান মোঃসিরাজুল ইসলাম। তিনি অনেক বছর যাবত আমেরিকা’র মিশিগানে বসবাস করছেন!
নিজের কিশোর বয়সে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের সান্নিধ্যে কাটা এক সপ্তাহ তাঁর জীবনের এক অমলিন স্মৃতি!!
০৮ মে ২০২৪ মিশিগান ইউএসএ
